মতামতরাজনীতি

করোনাকালঃ রাজনীতির হালচাল!

করোনা, সমসাময়ীক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি…

অনেকদিন যাবৎ ভাবছি বিষয়টির গভীরতা নিয়ে(উপরের শিরোনামটির) এক অদৃশ্য ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্বজগত আজ লন্ডভন্ড।তাব্বৎ দুনিয়া জুড়ে বিভীষিকার করুণ বিউগল বেজে উঠেছে।দামী প্রযুক্তি,পারমানবিক শক্তির মজুদ,অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী,যান্ত্রিক রোবট,শক্তিশালী গণতন্ত্র কিংবা আমলাতন্ত্র কিছুই কাজে আসছে না।কোন আবিষ্কারই করোনার জন্য সুখবর বয়ে আনছে না।পৃথিবী জুড়ে যখন এই অবস্থা বিরাজমান তখন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবুজ শ্যামল প্রকৃতি জুড়েও চলছে করোনার তান্ডবলীলা। প্রতিনিয়তই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল।জীবন-জীবিকা থমকে দাড়িয়েছে। আমি যেহেতু একজন ক্ষুদে রাজনীতিবিদ, তাই রাজনৈতিক অঙ্গন নিয়ে কিছু লিখছি।স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে কাঙ্খিত সময় ছিল ২০২০ সাল।জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিলো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সহ বেশ কয়েকটি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জটলা নিরসন করা হয়েছিলো।ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশরত্নের আগমন(হতেও পারে এই জনসমাবেশই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শেষ জনসমাগম) ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশ জুড়েই চলছিলো উৎসবের আমেজ।বিশ্ব পরিমন্ডলেও যার ঢেউ লেগেছিলো।ততোক্ষণে চিনের উহানে করোনার তান্ডবলীলা চরম পর্যায়ে। আচমকা অদৃশ্য ভাইরাসের হানা বাংলার আকাশে।বিন্দুমাত্র সময় ক্ষেপণ না করেই সবধরণের জনসমাগম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। স্থগিত করা হয় মুজিব বর্ষের সকল আয়োজন।লকডাউন নামে এক নতুন শব্দের সাথে বেড়ে যায় সখ্যতা। চালু হয় সামাজিক দূরত্ব।উঠে যায় আন্তরিকতার অন্যতম মাধ্যম হ্যান্ডশেইক।পাল্টে যায় নেতার নির্দেশনা।আগামীকাল প্রোগ্রাম আছে পর্যাপ্ত লোকজন নিয়ে উপস্থিত থেকো, না,নেতা সে কথা আর বলছে না।নেতা বলছে কোনধরণের লোকজন জমায়েত করা যাবেনা।সবাই ঘরে থেকো।কর্মী প্রটোকল নেই! লম্বা লাইনে দাড়িয়ে নেতার সাথে হ্যান্ডশেইক কিংবা শুভকামনা জানানোর কোন বালাই নেই!জাতীয় বিশেষ দিবসগুলোতে কোন জনসমাগম কিংবা রাজনৈতিক আলোচনা নেই! নেই বক্তৃতা কিংবা স্লোগানের চর্চা! তাহলে কি বদলে যাচ্ছে রাজনীতির প্রেক্ষাপট? তাহলে কি বদলে যাচ্ছে নেতৃত্ব বাছাইয়ের ধরণ? তাহলে কি তৎপর হচ্ছে সুযোগসন্ধানী কোন মহল? তাহলে কি টাকা কিংবা উপঢৌকনের চাদরে ঢেকে যাচ্ছে মাঠে ঘাম ঝরানো মধ্যবিত্ত পরিবারের সৎ,কর্মীবান্ধব,প্রকৃত মুজিব আদর্শের উদীয়মান কোন প্রজন্ম? তাহলে কি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার খপ্পরে আটকে যাচ্ছে রাজনীতির রাঙা লাঠি?হতাশার জানালায় উঁকি মারে এরকম হাজারো ভয়ংকর প্রশ্ন।
আমি চাই জনস্রোতে ঠাসাঠাসি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।আমি চাই নেতা-কর্মীর চিরায়াত সেই দৃশ্যপট।আমি চাই নিরন্তর ছুটে চলা মুজিব আদর্শের দিনরাত।

লিখেছেনঃ-

মোঃআরিফুল ইসলাম
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

আরো দেখুন

Leave a Reply

সম্পর্কিত খবর

Back to top button
%d bloggers like this: